Skip to main content

ইলেকট্রিক্যাল ক্যাবল নিয়ে সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা?

এস,এম,রফিক ঃ

ক্যাবল নিয়ে লেখাটি নতুন ইঞ্জিনিয়ারদের বেশ ভালো একটি ধারণা দিবে বলে আশা রাখছি। 

ক্যাবল কি বা কাকে বলে?

ক্যাবল মানে আমরা বুঝি বৈদ্যুতিক পরিবাহী তার যার ভেতর দিয়ে কারেন্ট চলাচল করে। ডেটা কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে ক্যাবল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

ক্যাবলের প্রকারভেদ ও সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

ক্যাবলকে নিম্মলিখিত ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
  1. কো-এক্সিয়াল ক্যাবল।
  2. টু-স্টেট পেয়ার ক্যাবল।
  3. ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল।
  4. আন-শেল্ড টুইস্টেড ক্যাবল
  5. ফ্লেক্সিবল ক্যাবল
  6. ভল্কানাইজড ক্যাবল
  7. পলিভিনাইল ক্যাবল
এছাড়া আরো অনেক অনেক ক্যাবল।
  • কো-এক্সিয়াল ক্যাবলঃ আমরা বাসাবাড়িতে ডিসের সাথে টিভি কানেকশন দেখে থাকি যেটা কো-এক্সিয়াল ক্যাবল। এছাড়া বাসাবাড়িতে এন্টিনার সাথে যে টেলিভিশন সংযোগ করা হয় তা কোএক্সিয়াল ক্যাবলের মাধ্যমে।  সাধারণত লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে এই ক্যাবল ব্যবহৃত হয়। এই ক্যাবল মূলত কপার বেস ক্যাবল। এই ধরনের ক্যাবল বিভিন্ন ধরনের হয় যেমন ৫০ ওহম(RG-8, RG-58), ৭৫ ওহম (RG-59) এবং ৯৩ ওহম (RG-62)। এ ক্যাবলের দাম অনেক কম।

  • টু-স্টেট পেয়ার ক্যাবলঃ এই ধরনের ক্যাবল অনেক সাধারণ, এবং মূল্য অনেক কম। এটা মূলত দুটি ইন্সুলেটেড কপার তার যা একটির সাথে অপরটি পাকানো থাকে। টুইস্টেড এর বাংলা অর্থ পাকানো বা পেঁচানো। টেলিফোন সিস্টেমে টুইস্টেড ক্যাবল ব্যবহার করা হয়।

  • ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলঃ এই ক্যাবল আলোর উপর নির্ভর করে ডেটা আদান-প্রদান করে থাকে। এটি অনেক পাতলা, সরু কাঁচ বা প্লাস্টিকের সমন্বয়ে গঠিত। এটি দিয়ে অনেক দূরে তথ্য আদান-প্রদান করা যায় খুব সহজেই। এই ক্যাবলের দাম তুলনামূলক ভাবে বেশি।

ইলেকট্রিক্যাল ক্যাবলে লেখা বিভিন্ন বর্ণের বা অক্ষরের অর্থ 

  • VDE – জার্মান ইলেকট্রিক প্রৌকশল জোট
  • N – জার্মান ইলেকট্রিক প্রৌকশল জোট
  • B – ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে
  • I – BS 2004 : 1961 অনুসারে
  • Y – PVC ভিত্তিক ইন্সুলেশন
  • A – এক কোর বিশিষ্ট তার
  • M – শক্ত আবরণ বিশিষ্ট তার
  • F – চ্যাপ্টা ক্যাবল
  • R – গ্যালভানাইজড স্টীলের চ্যাপ্টা তার যা ধাতু দিয়ে আবরণ করা থাকে।
  • Gb – প্যাচানো গ্যালভানাইজড করা ষ্টীলের টেপ।
  • re – একক পরিবাহী বিশিষ্ট গোলাকার তার।
  • Rm n. – একাদিক তারের সমন্বয়ে গোলাকার তার।
  • Sm – একাদিক পল্লের চ্যাপ্টা তার (টেলিফোন)
তারের সাইজ নির্ণয়
BDS : 900/901 BS : 6004:1984 অনুসারে
  • BYA PVC. – এক কোর বিশিষ্ট ক্যাবল যা ইন্সুলেশন করা আছে কিন্তু শক্ত আবরণ নেই
  • BYFY – এক কোর এবং এক পল্ল বিশিষ্ট ক্যাবল যা ইন্সুলেশন করা আছে কিন্তু শক্ত আবরণ নেই
  • BYFY PVC – ইন্সুলেটেড এবং পিভিসি শেথেড ফ্ল্যাট ক্যাবল।
  • NYA PVC – ইন্সুলেশন বিহীন এক কোর তার।
  • NYIFY PVC – ইন্সুলেশন এবং পিভিসি এর শক্ত আবরণ সহ চ্যাপ্টা তার।
  • NYMT PVC – ইন্সুলেশন ও পিভিসি এর শক্ত আবরন সহ চ্যাপ্টা তার এবং ষ্টীল তার দিয়ে আরো শক্তিশালী করা।
 VDE 0271 অনুসারে
BDS : 900 :1979, BS : 2004 :1961 
  • IYAL – পিভিসি ইন্সুলেটেড করা কিন্তু শক্ত আবরণ নেই।
  • IYYL – ইন্সুলেশন এবং পিভিসি এর শক্ত আবরণ এর এক কোরের তার।
  • IYFY – ইন্সুলেশন ও পিভিসি এর শক্ত আবরণ এর চ্যাপ্টা তার।
  • NYY – পিভিসি ইন্সুলেশন যুক্ত এবং পিভিসি শীথেড যুক্ত ক্যাবল।

তারের সাইজ বা কভারের গায়ে লেখা দেখে কি বুঝবো বা লেখা না থাকলে কিভাবে মান বের করবো ?

তারের সাইজ না জানা থাকলে সেই তার বা ক্যাবল দিয়ে কাজ করা অনেক বিপজ্জনক। কেননা আপনি যে তার দিয়ে কাজ করছেন সেই কাজটির জন্য তারটি হয়তোবা উপযুক্ত না। একারনে ইলেকট্রিক্যাল কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
আমরা জানি, তারের সাইজ স্ট্যান্ডার্ড ওয়্যার গেজের মাধ্যমে (SWG – Standard wire guage) গেজ নম্বরে সাহায্যে প্রকাশ করা হয়। আমরা অনেক সময় ৩/২২” ৭/২২” ইত্যাদি তারের গেইজ দেখে থাকি।
  • একটা প্রশ্নঃ 1*3*0.29 এর মানে কি??? এর মানে হলো ১ কোর এর ৩ টি খেই বিশিষ্ট এবং প্রতিটি খেইয়ের ডায়ামিটার ০.০২৯। নিচের ছবিটি দেখুনঃ তারের সাইজ নির্ণয়
  • ঠিক তেমন ভাবে 1*1/1.80 বলতে বুঝায় যে ১ কোর ১ খেই বিশিষ্ট প্রতি খেইয়ের ডায়ামিটার ১.৮০ মিমি।
  • বাসাবাড়িতে তারের সাইজ হয়ে থাকে ১, ২.৫, ৪ বর্গ মিলিমিটার এবং স্ট্যান্ডার্ড ওয়্যার গেজ নাম্বার থাকে ৩/২২, ৩/২০, ৭/১৮, ৭/২২ ইত্যাদি। নিচে একটি স্ট্যান্ডার্ড ওয়্যার গেজের ছবি দেওয়া হয়েছে। এই গেজের মাধ্যমে তারের সাইজ নির্ণয় করা যায়।
  • অনেক সময় তারের গায়ে RM বা SM বা RE লেখা থাকে। RM বলতে বুঝায় অনেক খেই বিশিষ্ট তার যার প্রস্থছেদ গোলাকার। SM বলতে বুঝায় অনেক খেই বিশিষ্ট তার যার প্রস্থছেদ সেক্টর আকৃতি। RE বলতে বুঝায় সিঙ্গেল নিরেট তার যার প্রস্থছেদ গোলাকার।

Comments

Popular posts from this blog

RM, SM, SE, RE দ্বারা ক্যাবলের কি বুঝানো হয়ে থাকে?

এস,এম,রফিক ঃ অনেকেই আমরা বলে থাকি আর এম এর মান কিভাবে বের করবো তারের সাইজ নির্ণয় করার জন্য। সত্যিকার অর্থে এটা কোন সঠিক নিয়ম নয় যদিও অনেক ফর্মুলা আছে। তারের সাইজ নির্ণয় নির্ভর করে ভোল্টেজ ড্রপ, দূরত্ব, লোড ইত্যাদির উপর যা আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। অনেকে ক্ষেত্রে ক্যাবলে rm, sm, se, re থাকে। এগুলো দ্বারা মূলত ক্যাবলের ইউনিট বুঝানো হয়। তারের সাইজ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে প্রথমে আমাদেরকে এগুলো জেনে রাখতে হবে। নিচের চিত্র দেখলে আশা করছি ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

ওয়াট কি, কিভাবে নির্ণয় করে?ওয়াট কিভাবে মাপে?

এস,এম,রফিক ঃ ওয়াট (Watt):  সহজ ভাবে বললে ক্ষমতার একক হচ্ছে ওয়াট। আমরা জানি যে কোন যন্ত্র তা ইলেকট্রিকাল, ইলেকট্রনিক কিংবা ম্যাকানিকাল হোক না কেন চলবার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। তেমনি ভাবে কোন যন্ত্র/লোড নির্দিষ্ট সময়ে কতটুকু শক্তি খরচ করে কোন কাজ সম্পূর্ণ করতে পারে সে হিসাব কেই ওয়াট বলে। ওয়াট কিভাবে নির্ণয় করে? ওয়াট বের করতে ওহম এর সূত্র (Ohm’s law) অনুযায়ী DC এর ক্ষেত্রে- P = V×I = I 2 ×R = V 2 ÷R অর্থাৎ, P = V×I  অথবা P = I×R  অথবা P = V 2 /R এই তিন ভাবে প্রকাশ করা যায়। ওয়াট বের করতে ওহম এর সূত্র (Ohm’s law) অনুযায়ী AC এর ক্ষেত্রে- P = V×I×P.F = I 2 ×R×P.F = (V 2 ×P.F)÷R অর্থাৎ, P = V×I×P.F   অথবা P = I 2 ×R×P.F   অথবা P = (V 2 ×P.F)÷R এই তিন ভাবে প্রকাশ করা যায়। এখানে, P  =  Power  যার একক হলো  Watt   I  =  Current  যার একক হলো  Ampere V  =  Voltage  যার একক হলো  Volt R  =  Resistance  যার একক হলো  Ohm...

ফিরে তাকাতে নেই

......শুধু পিছুটানেই পেছনে ফিরে তাকাতে নেই ........এতে করে অতিতের মায়াজাল সামনে এসে ভীর জমাবেই.......মায়া জড়ানো অতিতকে অনুধাবন করতে হয় গভির শুকাবহ নিরবতা দিয়ে৷  ..............   এস,এম, রফিক;----------