Skip to main content

সুইসগিয়ার,আইসোলেটর,লাইটিং এরেস্টার,বুখলজ রীলে,ইত্যাদি প্রশ্নাবলীর উত্তর।

এস,এম,রফিক ঃ

১। সুইসগিয়ার কাকে বলে?

সুইসগিয়ার বলতে সাধারণত ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমে সুইসিং ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ, প্রটেকশন, পরিমাপ ও সিস্টেমে ভারসাম্য রক্ষাকারী সরঞ্জাম এবং ঐ সব সরঞ্জাম স্থাপনের কাঠামো, কক্ষ ও ওয়ারিং এর সমষ্টিকে বুঝায়।

২। আইসোলেটর
বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বিশেষ করে
ট্রান্সফরমারকে নো-লোড অবস্থায় বা সামান্য লোড
অবস্থায় লাইন হতে বিচ্ছিন্ন করার জন্য আইসোলেটর
ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ আইসোলেটর এক ধরনের সুইস, যা অফলাইনে অপারেটিং করা হয়।
৩। লাইটিং এরেস্টার

লাইটনিং এরেস্টার বা সারজ ডাইভারটার এক ধরনের
ইলেকট্রিক্যাল প্রটেকটিভ ডিভাইস, যা পাওয়ার সিস্টেমে হাই ভোল্টেজকে বা সারজ ভোল্টেজকে সরাসরি মাটিতে
প্রেরন করে।

৪। রিভার্স পাওয়ার রীলে
প্যারালেল অপারেশনে কোন অল্টারনেটরের ইনপুট
কোন কারনে বন্ধ হলে বা অন্য কোন ত্রুটিতে ঐ
অলটারনেটর যদি বাসবার হতে পাওয়ার নেয় অর্থাৎ উল্টাদিক হতে পাওয়ার নিয়ে অল্টারনেটরটি মোটর হিসাবে কাজ করে তখন যে রিলের মাধ্যমে প্রটেকশন দেয়া হয় তার নাম রিভার্স পাওয়ার রীলে। এ রকম অবস্থায় রিভার্স পাওয়ার রীলে এনারজাইজড হয় এবং ঐ অল্টারনেটরের সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করে সিস্টেমকে রক্ষা করে।
৫। বুখলজ রীলে
ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন ত্রুটির প্রটেকশন ও সতর্কীকরণ
ব্যবস্থার জন্য ট্রান্সফরমার ট্যাংক ও কনজারভেটর এর মাঝে পাইপে যে রীলে বসানো থাকে সেটাই বুখলজ
রীলে। ত্রুটিজনিত অতিরিক্ত কারেন্ট হতে সৃষ্ট উত্তাপে
ট্রান্সফরমার ট্যাংকে যে গ্যাসের সৃষ্টি হয়, তার চাপেই এই
রীলে কাজ করে থাকে। অর্থাৎ শুধুমাত্র অয়েল কুলিং
ট্রান্সফরমারে এই রীলে ব্যবহৃত হয়।

৬। ডিফারেনশিয়াল রীলে
ডিফারেনশিয়াল রীলে এমন এক ধরনের ডিভাইস, যা দুই বা ততোধিক ইলেকট্রিক্যাল মান বা দিকের ভেক্টর পার্থক্য, যখন একটি আগে থেকেই নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি বা কম হয় তখন এই রীলে কাজ করে সিস্টেমকে বা ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রকে রক্ষা করে।

৭। ড্রপ আউট ফিউজ কি?
যে সব ক্ষেত্রে ফিউজ লিংক, ফিউজ ক্যারিয়ার সহ প্রতিটি অপারেশনের পর ড্রপ আউট হয়। ফিউজ লিংক থেকে যদি ফিউজের ক্যারিয়ার এসে ঝুলতে থাকে এবং লাইনের উভয় টার্মিনাল পৃথকীকরণ হয়, এ ধরনের ফিউজকে ড্রপ আউট ফিউজ বলে।
৮। ফিউজিং কারেন্ট কি?
সরবনিন্ম যে পরিমান কারেন্ট প্রবাহিত হলে ফিউজ তার গলে যায় তাকে ঐ ফিউজের ফিজিং কারেন্ট বলে। এই
কারেন্টের মান ঐ ফিউজের ফিউজিং এলেমেন্ট কারেন্ট
রেটিং এর বেশি হয়।

৯। কারেন্ট রেটিং অফ ফিউজিং এলিমেন্ট কি?
ফিউজ তার অতিরিক্ত গরম না হয়ে বা গলে না গিয়ে ম্যাক্সিমাম যে পরিমান কারেন্ট বহন করতে সক্ষম, তাকে ঐ ফিউজের কারেন্ট রেটিং বলে।

১০। ফিউজের কাট অফ কারেন্ট কি?
শর্ট সার্কিট কারেন্ট সরবোচ্চ যে মানে পৌছার পূর্বে
ফিউজ তার গলে যায়, তাকে ঐ ফিউজের কাট অফ কারেন্ট বলে।

১১। সার্কিট ব্রেকার কাকে বলে?
সার্কিট ব্রেকার হলো একটি বৈদ্যুতিক সুইচিং ডিভাইস যা দ্বারা ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটকে সাপ্লাই হতে সংযুক্ত ও বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে এটি ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটে নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষন যন্ত্র হিসাবে কাজ করে। ওভার লোড বা শর্ট সাকিট দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঐ ইলেকট্রিকাল সার্কিটকে সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তবে সার্কিট ব্রেকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কিটে সংযোগ করেনা ।

১২। সিমেট্রিক্যাল ফল্ট কি?
সিস্টেমে যে ফল্টের কারণে থ্রি-ফেজ সিস্টেমে
প্রতিটি ফেজে সমান ফল্ট কারেন্ট প্রবাহিত হয়, এ রকম
ফল্টকে সিমেট্রিক্যাল ফল্ট বলে।

১৩। বাসবার কি?
বাসবার এক ধরনের তামা বা এলুমিনিয়ামের তৈরি পরিবাহী পাত, বার বা রড, যা এক বা একাধিক সার্কিটে ইলেকট্রিক্যাল এনার্জি সংগ্রহ ও বিতরন করে।

১৩। বাস কাপলার কি?
বাস কাপলার মূলত সার্কিট ব্রেকার ও আইসোলেটর এর
সমন্বয়ে গঠিত। যা এক বাস এর সাথে অন্য বাসের সংযোগ এর জন্য ব্যবহার করা হয়।

১৪। বাসবার সেকশনালাইজড করা হয় কেন?
একটি সিস্টেমে কোন অংশে ত্রুটি হলে বা মেরামতের
প্রয়োজন দেখা দিলে যাতে শুধু ত্রুটিজুক্ত অংশটিকে
আলাদা করে দেয়া যায় এবং সমগ্র বাসবার সিস্টেম বন্ধ না করে ত্রুটিমুক্ত অংশ চালু রাখা যায় সেজন্য বাসবার
সেকশনালাইজড করা হয় ।

১৫। শতকরা রিয়াক্ট্যান্স কাকে বলে?
কোন সার্কিটে ফুল-লোড কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার সময়
মোট ফেজ ভোল্টেজ ড্রপের শতকরা হারকে শতকরা
রিয়াক্ট্যান্স বলে।

১৬। কি কি পদ্ধতিতে শর্ট সার্কিট কারেন্ট নির্ধারণ করা হয়?
তিন পদ্ধতি-
১) ওহমিক পদ্ধতি
২) পার ইউনিট পদ্ধতি
৩) শতকরা রিয়াক্ট্যান্স পদ্ধতি।

১৭। পার ইউনিট পদ্ধতি কি?
সোর্স হতে ত্রুটিপূর্ণ স্থান পর্যন্ত প্রতিটি মেশিন বা
ডিভাইসের (জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, লাইন, রিয়াক্টর, ফিডার ইত্যাদির) পার ইউনিট পদ্ধতিতে ইম্পিডেন্স (Z) বের করতে হয়। এ সময় ঐ ডিভাইস সমুহের সমতুল্য ইম্পিডেন্স সিরিজ/ প্যারালেল/সিরিজ-প্যারালেলে (কানেকশন অনুযায়ী) বের করে কোন জানা কেভিএ এর অনুপাতে রূপান্তরিত করতে হয়। রূপান্তরিত পার ইউনিট ইম্পিডেন্স হবে- Z = Z x(KVA /KVA )

১৮। কারেন্ট লিমিটিং রিয়াক্টর কি? কেন ব্যবহার করা হয়?
কারেন্ট লিমিটিং রিয়াক্টর বা বিদ্যুৎ সীমিত করন রিয়াক্টর
যথেষ্ট ইন্ডাক্টিভ রিয়াক্ট্যান্স বিশিষ্ট এক ধরনের ইন্ডাকটিভ
কয়েল। শর্ট সার্কিট অবস্থায় কারেন্টের পরিমাণকে
সীমিত রেখে ফল্ট কারেন্টের বিপদমাত্রা নিরাপদ সীমায়
নিয়ে আসার জন্য এই রিয়াক্টর লাইনের সাথে সিরিজে
সংযোগ করা হয়।

১৯। ফিউজের ফিউজিং ফ্যাক্টর কি?
ফিউজের মিনিমাম ফিউজিং কারেন্ট এবং কারেন্ট রেটিং অব ফিউজ এর অনুপাতকে ফিউজের ফিউজিং ফ্যাক্টর বলে। এর মান ১ এর চেয়ে বেশি হয়।

২০। মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার কাকে বলে?
মিনিয়েচার শব্দের আভিধানিক অর্থ হল ক্ষুদ্রাকার। যে সার্কিট ব্রেকার অল্প কারেন্টে কাজ করে এবং আকারের দিক দিয়েও ছোট এই ধরনের সার্কিট ব্রেকারগুলোকে
মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার কাকে বলে।

২১। সার্কিট ব্রেকারের রেটিং কি? রেটিং কি কি?
যে স্পেসিফিকেশন হতে সার্কিট ব্রেকারের গুণগত,
মানগত, কার্জগত বিভিন্ন দিক জানা তাকে সার্কিট ব্রেকারের রেটিং বলে।সার্কিট ব্রেকারের রেটিংগুলো তিন ধরনের হয়ে থাকে-
১) ব্রেকিং ক্যাপাসিটি
২) মেকিং ক্যাপাসিটি
৩) শর্ট টাইম ক্যাপাসিটি
২২। সার্কিট ব্রেকার মাউন্টিংস কি?
সার্কিট ব্রেকার এবং এর আনুষঙ্গিক সাহায্যকারী
যন্ত্রপাতিগুলো যে ফ্রেম বা স্ট্রাকচারের মাঝে স্থাপন
করা হয় তাকে সার্কিট ব্রেকার মাউন্টিংস বলে।

২৩। আর্ক কি? আর্ক ভোল্টেজ কি?
আর্ক হল এক ধরনের ইলেক্ট্রিক ডিসচার্জ যা দুটি
ইলেক্ট্রডের মধ্যে সৃষ্টি হয় ও ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ দেখা
দেয়। আর্কিং পিরিয়ডে সার্কিট ব্রেকারের কন্ট্যাকদ্বয়ের
আড়াআড়িতে যে ভোল্টেজ পাওয়া যায়, তাকে আর্ক
ভোল্টেজ বলে।

২৪। এয়ার সার্কিট ব্রেকার কাকে বলে?
যে সার্কিট ব্রেকারে আর্ক নির্বাপণ এবং অপারেটিং স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলের বাতাসের চাপে করা হয় তাকে এয়ার সার্কিট ব্রেকার কাকে বলে।

২৫। সার্কিট ব্রেকারের রিস্ট্রাইকিং ভোল্টেজ কাকে বলে?
আর্ক পিরিয়ডে প্রায় কারেন্ট শুন্য অবস্থায় সার্কিট
ব্রেকারের কন্ট্যাক্টস এর মাঝে যে ট্রানজিয়েট
ভোল্টেজের সৃষ্টি হয় তাকে রিস্ট্রাইকিং ভোল্টেজ বলে।
MCB – Miniature Circuit Breaker.
MCCB – Moulded Case Circuit Breaker.
HRC – High Rupturing Capacity.
ELCB – Earth Leakage Circuit Breaker
ACB – Air Circuit Breaker

Comments

Popular posts from this blog

RM, SM, SE, RE দ্বারা ক্যাবলের কি বুঝানো হয়ে থাকে?

এস,এম,রফিক ঃ অনেকেই আমরা বলে থাকি আর এম এর মান কিভাবে বের করবো তারের সাইজ নির্ণয় করার জন্য। সত্যিকার অর্থে এটা কোন সঠিক নিয়ম নয় যদিও অনেক ফর্মুলা আছে। তারের সাইজ নির্ণয় নির্ভর করে ভোল্টেজ ড্রপ, দূরত্ব, লোড ইত্যাদির উপর যা আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। অনেকে ক্ষেত্রে ক্যাবলে rm, sm, se, re থাকে। এগুলো দ্বারা মূলত ক্যাবলের ইউনিট বুঝানো হয়। তারের সাইজ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে প্রথমে আমাদেরকে এগুলো জেনে রাখতে হবে। নিচের চিত্র দেখলে আশা করছি ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

ওয়াট কি, কিভাবে নির্ণয় করে?ওয়াট কিভাবে মাপে?

এস,এম,রফিক ঃ ওয়াট (Watt):  সহজ ভাবে বললে ক্ষমতার একক হচ্ছে ওয়াট। আমরা জানি যে কোন যন্ত্র তা ইলেকট্রিকাল, ইলেকট্রনিক কিংবা ম্যাকানিকাল হোক না কেন চলবার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। তেমনি ভাবে কোন যন্ত্র/লোড নির্দিষ্ট সময়ে কতটুকু শক্তি খরচ করে কোন কাজ সম্পূর্ণ করতে পারে সে হিসাব কেই ওয়াট বলে। ওয়াট কিভাবে নির্ণয় করে? ওয়াট বের করতে ওহম এর সূত্র (Ohm’s law) অনুযায়ী DC এর ক্ষেত্রে- P = V×I = I 2 ×R = V 2 ÷R অর্থাৎ, P = V×I  অথবা P = I×R  অথবা P = V 2 /R এই তিন ভাবে প্রকাশ করা যায়। ওয়াট বের করতে ওহম এর সূত্র (Ohm’s law) অনুযায়ী AC এর ক্ষেত্রে- P = V×I×P.F = I 2 ×R×P.F = (V 2 ×P.F)÷R অর্থাৎ, P = V×I×P.F   অথবা P = I 2 ×R×P.F   অথবা P = (V 2 ×P.F)÷R এই তিন ভাবে প্রকাশ করা যায়। এখানে, P  =  Power  যার একক হলো  Watt   I  =  Current  যার একক হলো  Ampere V  =  Voltage  যার একক হলো  Volt R  =  Resistance  যার একক হলো  Ohm...

ফিরে তাকাতে নেই

......শুধু পিছুটানেই পেছনে ফিরে তাকাতে নেই ........এতে করে অতিতের মায়াজাল সামনে এসে ভীর জমাবেই.......মায়া জড়ানো অতিতকে অনুধাবন করতে হয় গভির শুকাবহ নিরবতা দিয়ে৷  ..............   এস,এম, রফিক;----------